মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক আজ জীর্ণ প্রাণের ব্যথা,
বৈশাখের ওই তপ্ত দহনে জাগুক নতুন কথা।
রুদ্রের তেজে রুক্ষ প্রকৃতি গাহুক সাম্যের গান,
রক্তের টানে মিশে যাক আজ বাঙালির অভিমান।
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা, পুড়ুক সকল লাজ,
উন্মাদ বেশে ডমরু বাজান প্রলয়পথের রাজ।
অশনি সঙ্কেত দূরে ঠেলে দিয়ে উড়ুক বিজয় কেতু,
হৃদয়ে হৃদয়ে গড়ে তুলি আজ প্রীতির সেতু ।
বটের মূলেতে মিলনের মেলা, নবীন প্রাণের স্রোত,
জীর্ণ চাদর ছিন্ন করে যে সার্থক হোক ব্রত।
হালখাতা জুড়ে হাসুক কৃষক, মিটুক ঋণের জ্বালা,
বাঙালির বুকে অজেয় সাহস, কণ্ঠে বরণমালা।
ছায়ানট তলে সুরের মূর্ছনা জাগায় সুপ্ত বোধ,
অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে আসুক তীব্র প্রতিশোধ।
বৈশাখী শোভাযাত্রার রঙ্গে ঘুচুক আঁধার ভয়,
হাতে হাত রেখে আজই গাহি পহেলা বৈশাখ জয়।
কালবৈশাখীর ঝড়ের দাপটে ভাঙুক মিথ্যার কারা,
আকাশের গায় উঠুক বিঁধে মুক্তির শুকতারা।
হাজার বছর অবিনাশী মোরা, বাংলা আমার মা,
অন্যায়ের কাছে কোনোদিন কভু মস্তক নত না।
