বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা চত্বরে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। রং-তুলি হাতে স্থানীয় শিল্পীরা তৈরি করছেন শোভাযাত্রার বিভিন্ন মোটিফ ও উপকরণ। ইতোমধ্যে মুখোশসহ নানা সাজসজ্জার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
নতুন বছরের আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করতে উপজেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে। শিল্পীদের সৃজনশীলতায় ফুটে উঠছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতীকী অনুষঙ্গ। এবারের শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করতে থাকছে মাখল, কাস্তে, মাছ ধরার জাল, পলই, খলই, রঙিন কুলা, হাতপাখা, কলস, ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিল্পীদের অংশগ্রহণ।
আয়োজকরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদের আমেজ শেষ না হতেই বাঙালির অন্যতম সর্বজনীন উৎসবকে ঘিরে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। সব ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এ উৎসবে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে থাকছে হস্ত ও কুটির শিল্প, চারু ও কারুশিল্প, পিঠা ও ফুড কর্নারসহ প্রায় ২০টি স্টল। এছাড়া আয়োজন করা হয়েছে নাটিকা, গম্ভীরা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
