মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে চীন। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) চীনা প্রতিনিধিদলটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি হলে বেইজিং তাতে ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার যতগুলো ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে চীনের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী কেবল পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই নয়, বরং শেষ মুহূর্তে চীনের হস্তক্ষেপ ও নমনীয় হওয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। চীন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। যদিও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সরাসরি এই ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেননি, তবে তিনি জানিয়েছেন, বেইজিং সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং দ্রুত হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরুর আশা রাখে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমমতি। এ ছাড়া নিরাপত্তা, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং আইনি বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তবে আলোচনার শুরুতেই শর্ত নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ইরানি পক্ষ এখনো অনড়, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সব শর্ত কার্যকর করার ঘোষণা দিতে হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইরানকে ‘নতুন উদ্যমে’ এবং কোনোপ্রকার ‘পূর্বশর্ত ছাড়াই’ আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই শান্তি আলোচনা পর্যবেক্ষণের জন্য সৌদি আরবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান ইসলামাবাদ সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শাহবাজের পৃথক বৈঠকইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শাহবাজের পৃথক বৈঠক
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটিতে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র আস্থার সংকটের মধ্যেও এই বৈঠককে একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে পাকিস্তান।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, ইসলামাবাদে বহুল আলোচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চিরবৈরী এই দুই দেশের প্রতিনিধিরা এখনো সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসেননি; বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে ‘পরোক্ষ আলোচনা’ চলছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের প্রস্তাব ও দাবিগুলো একে অপরের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ একই শহরে অবস্থান করলেও সরাসরি কোনো বৈঠক এখনো হয়নি। পাকিস্তান সরকার চেষ্টা করছে দুই পক্ষকে একটি অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসতে, যাতে পরবর্তী সময়ে সরাসরি বা ‘ফেস-টু-ফেস’ আলোচনা সম্ভব হয়।
