জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অভিপ্রায় উপেক্ষা করে ‘গণভোটের রায় বাতিল’ করায় উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, গণভোটের সুস্পষ্ট রায় উপেক্ষা করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা এবং রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানার ধারণাকে ভেঙে দেওয়া—এটি নিছক একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
আজ শনিবার দলের দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপুর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্তকে ৫০ শতাংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে খারিজ করা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতির বিকৃতিই নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার ওপর সরাসরি আঘাত—যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তিকাঠামোকেই দুর্বল করে দেয়।
আ স ম রব আরও বলেন, সংসদ জনগণের প্রতিনিধি হতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তা জনগণের ঊর্ধ্বে নয়, জনগণের বিকল্পও নয়। গণভোটে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ই রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতার প্রকাশ; সেই রায়কে সংসদের পরোক্ষ সিদ্ধান্ত দিয়ে বাতিল করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে রব আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেই রায় বাতিল করা রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণতান্ত্রিক আস্থা এবং প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শহীদের আত্মদান কোনোভাবেই ক্ষমতা দখলের সিঁড়ি নয় উল্লেখ করে প্রথম পতাকা উত্তোলক বলেন, এটি একটি অমোঘ নৈতিক দায়বদ্ধতা—যা রাষ্ট্রের বৈধতাকেই পুনর্মূল্যায়নের সামনে দাঁড় করায়। এই প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই সনদ’-এর অভিপ্রায়কে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এখন আর রাজনৈতিক বিকল্প নয়—এটি একটি অনিবার্য ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের প্রতি অবিলম্বে এর বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
