ঈদের পরও কমেনি বাজারের চাপ। সোনালি মুরগির দাম কয়েক দফা বেড়ে এখনো চড়া, ডিমেও ঊর্ধ্বগতি। ব্রয়লার কিছুটা কমলেও পয়লা বৈশাখ ঘিরে ইলিশের সংকট ও উচ্চ দামে স্বস্তি নেই ভোক্তাদের।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪১০-৪২০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ছিল ৪০০ টাকার মধ্যে। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।
এ ছাড়া বাজারে স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের সরবরাহ। বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বোতলজাত তেলের সংকট কাটেনি। বিক্রেতারা বলছেন, ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো মাঝে মাঝে তেলের সরবরাহ দিচ্ছে। সেটাও চাহিদার তুলনায় ৫-১০ শতাংশ।
ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার ক্যাব মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই খাতে সিন্ডিকেট হচ্ছে বলে দাবি করেছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মানিকনগর, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, তেলের সরবরাহ না থাকায় অনেক দিন ভোজ্যতেলের ডিলার প্রতিনিধিরা ক্রয়াদেশ নিতে বাজারে আসেননি। তবে দু-এক দিন ধরে কোনো কোনো ব্র্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধিরা আসা শুরু করেছেন। কিন্তু তেলের সরবরাহ দিচ্ছেন কম। রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারের মুদিদোকানি সিফাত বলেন, ‘দৈনিক ১০-১৫ কার্টন তেল প্রয়োজন আমাদের। সেখানে অনেক দিন পর দুই কার্টন তেল দিয়েছে। সেটাও দুই লিটারের। এক ও পাঁচ লিটারের বোতল নেই।’
পাশে দাঁড়ানো রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ডিলার প্রতিনিধি সোহাগ বলেন, ‘অনেক দিন আমরা তেল পাইনি। এখন কিছু কিছু পাচ্ছি। তবে সেটা অনেক কম। সব দোকানদার চাহিদা দিয়ে রেখেছে তাই ভাগ করে সবাইকে কিছু কিছু দিতে হচ্ছে। তবে দাম আগের মতোই রয়েছে।’
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খোলা পাম তেলের খুব একটা সংকট নেই। তবে দাম কিছুটা বেশি। খোলা সয়াবিন তেলও রয়েছে। তবে সেটার সরবরাহে কিছুটা টান আছে। এতে দামও কিছুটা বেশি। বাজারগুলোতে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ টাকা।
জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে একধরনের চাপ তৈরি করেছেন। তাঁরা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারের কাছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৫৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা, পাম তেল বর্তমান নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৭৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দিলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে খোলা তেল।
অন্যান্য মুদি পণ্যের মধ্যে চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি; যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১০৫ টাকা। মসুর ডাল ও আটা-ময়দার দাম স্থির রয়েছে। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, আটা ৪০-৪৫ টাকা ও ময়দা ৪৮-৬০ টাকা কেজি।
তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও কমতে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সাম্প্রতিক সময়ে ২২০ টাকায় উঠে যাওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে।
খামারিরা বলছেন, খামারে খামারে বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগে ব্যাপক হারে মুরগি মরে যাচ্ছে। যে কারণে সোনালি জাতের মুরগির সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে।
পয়লা বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের চাহিদা বাড়ছে। তবে ৭ এপ্রিল থেকে দেশের বেশ কিছু ইলিশের অভয়ারণ্যে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে, যা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এতে বাজার প্রায় ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু মাছ আসছে, যা সাগরের বলে বিক্রি হচ্ছে। তবে পরিমাণে খুবই কম। গতকাল মুগদা ও খিলগাঁও বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র একজন করে বিক্রেতার কাছে ইলিশ রয়েছে। ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের সেই ইলিশের দাম চাইলেন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি। শান্তিনগর গিয়ে কিছুটা বড় ইলিশ পাওয়া গেলেও দাম চাইলেন ২ হাজার ৯০০ টাকা কেজি।
