ডোনাল্ড ট্রাম্প যখনই আবার আমেরিকার পুরোনো মিত্রদের নিজের অবস্থানে আনতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তখন জার্মান সরকার আরও প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে চায়। বার্লিন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোন দুর্বল অবস্থানে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অংশীদাররা চাপ প্রয়োগ করতে পারে, তা নির্ধারণ করা। এই উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের মতে, ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আবার বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ইইউ দেশগুলো কীভাবে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার উপায় রয়েছে বলে মনে করছে বার্লিন। কর্মকর্তাদের মতে, অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে থাকতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগের উত্থান আঘাত করা, যা এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারকে রেকর্ড উচ্চতায় তুলতে সহায়তা করেছে। কিংবা এমন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে যাতে আমেরিকান ভোটারদের জন্য ওষুধের দাম বেড়ে যায়। এটি এমন এক বিষয়, যেটিতে ট্রাম্প আগেই সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের অর্থনৈতিক কৌশল বিশেষজ্ঞ টোবিয়াস গেহরকে বলেন, ‘একসঙ্গে থাকলে ইউরোপ ট্রাম্পকে দেখাতে পারবে যে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইউরোপ যদি বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে পারে যে—ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল কাজ করে না, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পকে সমর্থন করা শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’
কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব পরিকল্পনা কার্যকর করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের পছন্দের ফলাফল হলো হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা। জার্মান চ্যান্সেলর দপ্তরের এক মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, বাণিজ্য এখন ক্রমেই দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল ও নির্ভরতার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ফেডারেল সরকার এসব পরিবর্তন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা শুধু নিজেদের নির্ভরতার বিষয়ই নয়, বরং উৎপাদনকারী দেশ এবং জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পণ্য আমদানি করা দেশগুলোর নির্ভরতাও বিবেচনায় নিচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে হয়তো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্যারিস বৈঠকে। সেখানে ইরানে আমেরিকান-ইসরায়েলি হামলার পরবর্তী প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে জার্মান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎজ বলেন, বিশ্বায়নের উপযুক্ত সময়ে তৈরি হওয়া নির্ভরতার সম্পর্কগুলো একতরফাভাবে ইউরোপের বিপক্ষে নয়। অন্যান্য দেশও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের জন্য ইইউর ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রয়োজনে এই প্রভাব কাজে লাগাতে প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বার্থ চিহ্নিত করছি এবং একই সঙ্গে সেগুলো রক্ষার উপায়ও নির্ধারণ করছি।’
জানুয়ারিতে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগ ইউরোপের রাজধানীগুলোর ভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। অনেকের কাছে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পারস্পরিক অঙ্গীকারের যুগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে অংশীদার থাকলেও এখন এটি এমন একটি নিরাপত্তা ঝুঁকিও, যার মোকাবিলার জন্য ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে। জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার মঙ্গলবার বলেন, ‘আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আর সুযোগ নেই। বিভাজনটা অনেক গভীর।’
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বার্লিনে এই কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। কর্মকর্তারা ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন। একই সময়ে ব্রাসেলসেও একটি সমান্তরাল উদ্যোগ চলছে, যেখানে ইউরোপীয় কমিশন নতুন নিরাপত্তা কৌশলের আগে ইইউর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর ওপর ইইউ কীভাবে নিজের প্রভাব প্রয়োগ করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে বেশি ঝুঁকিতে থাকা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা দিতে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। সবাই জানে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতই শক্তিশালী। বার্লিনের হার্টি স্কুলের প্রেসিডেন্ট কর্নেলিয়া ভোল বলেন, ‘অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জার্মানি নিজের প্রভাবের হাতিয়ারগুলো লুকিয়ে রাখতে পারে না। তবে এসব হুমকি হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্বে এমন পদক্ষেপ সব সময় উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল হয় এবং তা একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার চক্রও শুরু করতে পারে।’
বার্লিন যেসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে পারে
একক বাজার
আলোচনায় জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রভাবের জায়গা হলো ৪৫০ মিলিয়ন সচ্ছল ভোক্তার বাজারশক্তি। মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশ সীমিত করা বা তাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অস্ত্র হতে পারে। ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইইউর নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগের বিষয়ে বিশেষভাবে সংবেদনশীল।
আলফাবেট, আমাজন বা মেটার ওপর নতুন কর, জরিমানা বা পরিচালনাগত বিধিনিষেধ আরোপ করলে তাদের মুনাফায় বড় আঘাত আসতে পারে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ ভূ-অর্থনীতি বিশ্লেষক আন্তোনিও বারোসোর মতে, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ও ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের মাধ্যমে ইইউর কাছে ইতিমধ্যেই এমন আইনগত ক্ষমতা রয়েছে, যা ব্যবহার করে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।
ডেটা সেন্টার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সরবরাহশৃঙ্খলেও আরেকটি চাপের জায়গা রয়েছে। জার্মান কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফটের এআই ইউনিট এবং ইলন মাস্কের এক্স উদ্যোগসহ মার্কিন কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে আংশিকভাবে ইউরোপীয় শিল্প উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। এসব উপাদানের মধ্যে সিমেন্স এজি’র মতো প্রতিষ্ঠানের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতিও রয়েছে। ইউরোপ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিল্পনীতি পরিবর্তন করছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাক্সেলারেশন অ্যাক্টের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং ইউরোপীয় উপাদান ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে ইউরোপের উৎপাদনভিত্তি সুরক্ষিত থাকবে এবং মার্কিন ও চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীরা কিছুটা পিছিয়ে পড়বে।
সেমিকন্ডাক্টর
জার্মান কর্মকর্তাদের মতে, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি কষ্টদায়ক অস্ত্র হতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের জন্য ওয়াশিংটন এখনো ইউরোপীয় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ডাচ প্রতিষ্ঠান এএসএমএল এবং তাদের জার্মান সরবরাহকারী জাইস ও ট্রুম্ফ উন্নত লিথোগ্রাফি মেশিন তৈরি করে, যা অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় সরকারগুলোকে চাপ দিয়ে আসছে, যাতে এই কোম্পানিগুলো চীনের কাছে বিক্রি সীমিত করে। উদ্দেশ্য হলো বেইজিং যেন সবচেয়ে উন্নত চিপ প্রযুক্তির নাগাল না পায়।
ওষুধ, রাসায়নিক ও মেশিন টুলস
ব্রাসেলসে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ব্র্যান্ডেড ওষুধের প্রায় অর্ধেকের সক্রিয় উপাদান ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। প্রতিদিন আমেরিকানরা যে ইনসুলিন ব্যবহার করে তার ৯০ শতাংশও ইউরোপ থেকেই আসে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি ইউরোপ সরবরাহ করে। বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খলের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৩০০টি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ আমদানির জন্য ইউরোপীয় সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল। আরও ৭০০ টির বেশি ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি।
ইউরোপীয় বিনিয়োগ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস ইইউ। সরকারগুলো সরাসরি কোম্পানিগুলোকে কোথায় বিনিয়োগ করবে তা নির্দেশ দিতে পারে না, তবে তারা নিয়ন্ত্রক কাঠামো পরিবর্তন বা রপ্তানি প্রণোদনা প্রত্যাহার করে ইউরোপীয় মূলধনকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে সরিয়ে নিতে উৎসাহিত করতে পারে। বার্লিনের আগের সরকার চীনের দিকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ঠেকাতে একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল।
যেসব ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ হবে না
মার্কিন সম্পদ
চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় সরকার ও বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১০ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার ধারণ করে, যা বাজারের প্রায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তারা ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন সরকারি বন্ড এবং ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করপোরেট বন্ডও ধরে রেখেছে। ফলে বিদেশিদের মালিকানাধীন মার্কিন শেয়ারের প্রায় অর্ধেক এবং বিদেশিদের হাতে থাকা ট্রেজারি ও সংস্থাভিত্তিক সিকিউরিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপীয়দের দখলে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা করপোরেট ঋণের ৫৭ শতাংশও তাদের হাতে।
ডয়েচে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা গবেষণা বিভাগের প্রধান জর্জ সারাভেলোস বলেছেন, যদি আটলান্টিকের দুই পাশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়, ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা তাদের বড় অংশের সম্পদ বিক্রি করার কথা বিবেচনা করতে পারে। তবে বার্লিন এখনো এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বারোসোর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ। বৃহৎ আকারে সম্পদ বিক্রি সমন্বয় করা কঠিন, আর মার্কিন বাজার ও ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্যের কারণে এতে ইউরোপ নিজেই বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন বিমানঘাঁটি
জার্মান কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে শক্তি প্রদর্শনে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভূমিকা নিয়েও পর্যালোচনা করছেন। ইরানের ওপর হামলার সময় এই ঘাঁটিগুলোর গুরুত্ব বিশেষভাবে সামনে এসেছে। চেম্বার অব কমার্সের হিসাব অনুযায়ী, ন্যাটো না থাকলে এই সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বছরে ১০০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও মৌলিক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার হুমকি কতটা বাস্তব তা দেখিয়ে দিয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন, যা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমনটা কল্পনা করা কঠিন। বার্লিন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল জায়গা কাজে লাগাতে চাইছে কি না, এমন প্রশ্নে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস গত সপ্তাহে বলেন, ‘এটি মুখোমুখি সংঘাতের বিষয় নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থ নির্ধারণের বিষয়। ভালো বা খারাপ যেকোনো দাম্পত্যেই শতভাগ মিল থাকে না।’
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ
