সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি
সরওয়ার জাহান চৌধুরী কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার তদানিন্তন বৃহত্তর রাজাপালং “বোর্ড প্রসিডেন্ট “প্রভাবশালী জমিদার মরহুম মকবুল আহাম্মদ সিকদারে দৌহিত্র,এবং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রখ্যাত জমিদার আবুল কাশেম চৌধুরীর ৫ম সন্তান।
১৯৬৮ সালে ৯ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন রাজাপালং
ইউনিয়নে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। উচ্চ শিক্ষিত দুর্দান্ত সাহসী, কর্মী বান্ধব নেতার মাতা ছিলেন নুর জাহান বেগম তিন ছিলেন প্রভাবশালী জমিদার কন্যা। সরওয়ার জাহান চৌধুরী স্থানীয় মক্তব থেকে ইসলামি শিক্ষা শেষ করেন একই সাথে রাজাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করে উখিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হন।পরে তিনি ১৯৮১ সালে ঢাকায় চলে যান।ঢাকাস্থ আর্দশ স্কুলে থেকে তিনি ২য় বিভাগে এস,এস,সি পাশ করে পরে আবার তিনি উখিয়ায় ফিরে আসেন ১৯৮৮ তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ২য় বিভাগে উত্তির্ন হয়ে এইচ,এস,পাশ করেন। তিনি১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২য় বিভাগে বি,এ অনার্স (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) পাশ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি কক্সবাজার ছাত্রসংসদের নির্বাচিত জি,এস ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচনে “এফ, রহমান হল” থেকে ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন।
রাজনীতি পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন নামজাদা ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও বেশ পরিচিত অর্জন করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ২০০৩ সালের দিকে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতিতে তৎপর হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির উখিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি থেমে থাকেননি দুর্দান্ত রাজনৈতিক তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পূর্ণ ব্যক্তি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ২০০৮ সালে উখিয়া উপজেলা বি এন পির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক হুইপ মজলুম জননেতা উখিয়া টেকনাফ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (সরওয়ার জাহান চৌধুরী শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই) শাহজাহান চৌধুরীর পরামর্শ ও পরিচালনা অনুসরণ করে সরওয়ার জাহান চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় নতুন উদ্দীপনায় দলকে জাগিয়ে তুলেন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নিজেকে শক্তআসনে পাকাপোক্ত করে পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতা কর্মীদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত করে আন্দোলন সংগ্রামের নেমে পড়েন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার তিনমাস পরে ষড়যন্ত্রকারী আওয়ামী সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে চেয়ারম্যান পদটি অকার্যকর করে দেন এর পরেও থেমে থাকেনি এই অকুতোভয় জিয়ার সেনানী। দলের ঘোষিত সকল কর্মসূচি তিনি নেতা কর্মী নিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যান।
রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি আওয়ামী সরকার আমলে অগণন মিথ্যা মামলা স্বীকার হন। এর পরও অদম্য সরওয়ার জাহান চৌধুরী রাজনীতি থেকে বিন্দুমাত্র পিঁছপা হননি, আপোষ কিংবা আঁতাত করেননি কারো সাথে।
২০১৬ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা বি এন পির সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সফরে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন রাস্ট্র পরিভ্রমণ করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুরিয়া,সৌদিআরব, চীন সহ বেশ কিছু দেশে।
বিদেশ সফরের লব্ধ জ্ঞান তিনি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনে কাজে লাগান।
রাজনীতি পাশাপাশি তিনি শিক্ষা, কৃষি, যাতায়াত ব্যবস্থা,ক্রীড়া ও সংস্কৃতির কর্মকান্ড প্রসারে উখিয়া উপজেলায় ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্রজনতা আন্দোলনে দুর্বার নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিলে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে চৌধুরীর বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতেননা। জাতীয় স্থানীয় সকল দলীয় কার্যক্রমে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে উখিয়া,কক্সবাজার কোর্টবাজারে রাজপথে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যায় করেন। নিরহংকারী, নির্লোভ, জমিদার পুত্র গণমানুষের নেতা সরওয়ার জাহান চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে সফল একজন অভিবাভক। চৌধুরীর প্রথম ছেলে ব্যারিষ্টার,২য় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার,প্রথম মেয়ে এম,বি,বিএস ডাক্তার, আর ছোট মেয়ে স্কুলে অধ্যায়নরত আছেন।

