বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতি, আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের রাউজানে এক প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা মূলত সিলেট অঞ্চল থেকে এসে চট্টগ্রামে ডাকাতি করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতে রাউজান থানার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে পালানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ ৪ হাজার ৯৮৪ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্জসহ ডাকাতির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ডাকাত দলের মূলহোতা ফজর আলী চট্টগ্রামের হলেও অন্য সদস্যরা সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে এসে ডাকাতি করত। ঘটনার দিন সকালে তারা হবিগঞ্জ থেকে বাস ও ট্রেনে করে চট্টগ্রামে এসে সন্ধ্যার দিকে আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে লুকিয়ে থেকে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি সংঘটিত করে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কবির হোসেন (৪৬), মাধবপুর থানার আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮), মো. মামুন মিয়া (৩০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার আলী আহম্মদ (২৩), গোলাপগঞ্জ থানার মনোয়ারুজ্জামান ইমন (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার আবুল হোসেন (৩২)।
এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ফজর আলী ও বাহুবল থানার আমিন আলী।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি, আশিকের বিরুদ্ধে ৫টি, মিটুর বিরুদ্ধে ৩টি, মনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মামুনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে পলাতক ফজর আলীর বিরুদ্ধে ২৯টি এবং আমিন আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মূলহোতা ফজর আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে টার্গেট নির্ধারণ করে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি পরিচালনা করত। পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, উপদেষ্টাঃ সাঈদা সুলতানা, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন