গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নে এক প্রবাসীর সাত বছরের শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্মম এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসী সবুজ মিয়ার সাত বছরের ছেলে ছাদিক মিয়াকে গত ১৪ মার্চ দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তার মুখের ভেতরে প্লাস্টিক গুঁজে দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
স্থানীয়রা জানান, নির্যাতনের ধরণ এতটাই ভয়াবহ ও নৃশংস ছিল যে ঘটনাটি দেখে শিউরে উঠেছেন এলাকার মানুষ। একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরতা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। গ্রামজুড়ে এখন আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এমন নৃশংসতা সমাজে আরও ভয়াবহ বার্তা দেবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ছোট্ট ছাদিক মিয়ার সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনের জন্য এখন প্রার্থনায় মুখর পুরো এলাকা।

