প্রকৃত সাংবাদিক তার নিজের সমস্যা বা সম্ভাবনার সংবাদ কোনোদিন তার নিজের মিডিয়ায় প্রকাশ করেন না। অন্যরাও তাদেরকে নিয়ে কোনোদিন সংবাদ লেখেন না বা ছাপেন না। তিনি অন্যের সমস্যা আর সম্ভাবনার কথা বলতে বলতে, লিখতে লিখতে একদিন নিজেই এ জগত থেকে বিদায় নিয়ে ছোট্ট একটি খবরের শিরোনাম হয়ে যান।
সাংবাদিক উদারভাবে তার নিজ পেশার তীব্র সমালোচনাও করেন যাতে পেশার সুনাম অক্ষুন্ন থাকে। অন্য কোনো পেশার মানুষ তাদের নিজ পেশার এমন সমালোচনা কখনো করেছেন বলে জানা যায় না।
ফলত: সাধারণ সাংবাদিক তার নিজের কষ্টগাঁথা যে-ই গোপনে ছিল, সেই গোপনেই রেখে দেন। কেউ জীবিত অবস্থায় সেসব নিয়ে কোনো সংবাদ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন বলে জানা যায় না। তবে মৃত্যুর পর কারো কারোবা প্রেসক্লাবের উঠোনে তার শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ মেলে। জীবনে এটাই তার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি বলে এ দেশে প্রচার আছে।
সারাজীবন দেশ ও জনগণের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে তথ্যসেবা দিয়ে নিজের শরীরের ওপর অবিচার করে, নিজের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গদান থেকে বঞ্চিত করে যে তথ্যসেবার তপস্যাটা করে যান, তার কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না। তার শ্রমঘাম মিশে থাকে শুধু পত্রিকার পাতার কালো কালো হরফে।
পত্রিকার পাতার এক একটি কালো হরফ যেন এক একজন সাংবাদিকের জীবনেরই কষ্টগাঁথা আর বোবাকান্না। এসব কারণে এই নির্মোহ পেশা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের সুবাদে এখনো সাংবাদিকতাকে মহান পেশা বলা হয়।

