দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা বাগেরহাট তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলী মাজার এবং সুন্দরবন—এই তিন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পকে করেছে সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত।

ষাটগম্বুজ মসজিদ: ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্য
পঞ্চদশ শতকে নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। এটি নির্মাণ করেন প্রখ্যাত সাধক ও শাসক খানজাহান আলী। লাল পোড়ামাটির ইট ও বহু গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাগেরহাটের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
খানজাহান আলী মাজার: আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র
ষাটগম্বুজ মসজিদের অদূরেই অবস্থিত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরীফ। প্রতিবছর ওরস উপলক্ষে এখানে হাজারো ভক্ত-অনুসারীর সমাগম ঘটে। মাজার সংলগ্ন বিশাল দিঘি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই স্থান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরবন: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন
বাগেরহাট জেলার দক্ষিণে বিস্তৃত সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এই বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। নদী-খালবেষ্টিত অপরূপ এই বনভূমি প্রতিবছর দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটককে আকর্ষণ করে।
পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনা
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ প্রচার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বাগেরহাট দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়ে বাগেরহাট আজ পর্যটকদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

