অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেছেন, শুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে। ভাষার মর্যাদা রক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তি—এমন মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি বাঙালি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং গণমাধ্যমে ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে ভাষাগত শৃঙ্খলা তৈরি হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বাংলা ভাষাকে আধুনিক জ্ঞানচর্চার উপযোগী করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ভাষার সঠিক চর্চা সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম জীবিত ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট সামিউল হক উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, আরডিসি শেখ মাহবুবে সোবহানী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরজ্জামান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের মিডিয়া উইং সম্পাদক সাংবাদিক আশির্বাদ রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

