রাজগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাম রাখা হলো খালেদা জিয়া। নবজাতক এই খালেদা জিয়াকে একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় করছে তার বাড়িতে। গতকাল রোববার বিকেলে নবজাতক খালেদা জিয়াকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশু ‘খালেদা জিয়া’র পরিবারকে নগদ অর্থ, পোশাক ও ফলমূল উপহার দেন।
নবজাতক খালেদা জিয়ার বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেঙনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যান তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৩৫)। কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। এ সময় তীব্র প্রসববেদনা অনুভব করেন তিনি। পরে নারী ভোটাররা তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে আসা ভোটাররা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেন। পরে নবজাতকের নাম রাখা হয় খালেদা জিয়া।এদিকে খরটি ছড়িয়ে পড়লে নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতা নবজাতক খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে আসতে থাকেন।
আম্বিয়া খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেঙনাই পশ্চিমপাড়ার শরিফুল ইসলামের স্ত্রী।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই সন্তান সম্ভবা মা ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ভোট দিতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। তিনি ভোটকেন্দ্র কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আমরা মা-মেয়েকে দেখতে এসেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার নাম রাখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামের অনুকরণে। আমরা তার নিক নেম হিসেবে নাম দিয়েছি ত্রয়ী। আমরা যতদিন আছি এই পরিবারের পাশে থাকব। নবজাতক যেন বড় হয়ে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে এই দোয়া করি। আমরা তার জন্ম সনদ দিয়েছি।সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, আমরা মা ও মেয়ের স্বাস্থ্যের খবর নিতে এসেছি। আল্লাহর রহমতে দুজনেই ভালো।
নবজাতক খালেদা জিয়ার বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি সৌভাগ্যবান ভোটকেন্দ্র আমার কন্যা সন্তান হয়েছে। আমি এখন দুটি কন্যা সন্তানের বাবা হলাম। বিএনপিকে আমি ভালোবাসি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। তার নামেই আমার মেয়ের নাম রেখেছি খালেদা জিয়া।নবজাতক খালেদা জিয়ার মা আম্বিয়া খাতুন বলেন, গত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল। মানুষের মধ্যে উৎসহ উদ্দীপনা ছিল। আমিও বসে থাকিনি। পেটের মধ্যে সন্তান নিয়ে কষ্ট করে ভাোটকেন্দ্রে গিয়েছি। এ সময় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে পাশের একটি কক্ষে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। আমি ভীষণ খুশি ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে।স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মণ্ডল বলেন, নবজাতক খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার জন্য দূর-দূরন্ত থেকে লোকজন আসছে শরিফুলের বাড়িতে। এলাকায় এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করছে

