নীলনদের দেশ মিসর। যেখানে ফেরাউনের প্রাসাদে মানুষের ওপর জুলুম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সেই তপ্ত দুপুরে আল্লাহর নির্দেশে ফেরাউনের বিশাল ও জাকজমকপূর্ণ রাজদরবারে প্রবেশ করলেন দুই ভাই—হযরত মুসা (আ.) ও হযরত হারুন (আ.)। তাঁদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, কিন্তু হৃদয়ে আছে আল্লাহর অটল বিশ্বাস।
১. তাওহীদের অকুতোভয় ঘোষণা
হাজার হাজার সৈন্য আর আমির-ওমরাহদের সামনে দাঁড়িয়ে মুসা (আ.) সরাসরি ফেরাউনের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “হে ফেরাউন! আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। তুমি এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং বনী ইসরাঈলদের ওপর জুলুম বন্ধ করো।”
নিজের সামনে দাঁড়িয়ে এমন দুঃসাহসিক কথা শুনে ফেরাউন ক্রোধে ফেটে পড়ল। সে অহংকারে উন্মত্ত হয়ে চিৎকার করে বলল, “আমিই তো তোমাদের শ্রেষ্ঠ খোদা! কে সেই আল্লাহ যার কথা তুমি বলছ?”
২. মূর্ত নিদর্শন: লাঠি ও উজ্জ্বল হাত
ফেরাউন যখন মুসা (আ.)-কে মিথ্যাবাদী প্রমাণের চেষ্টা করল, তখন মুসা (আ.) আল্লাহর দেওয়া নিদর্শন পেশ করলেন।
অলৌকিক লাঠি: তিনি তাঁর হাতে থাকা সাধারণ কাঠের লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করলেন। চোখের পলকে সেই লাঠিটি এক বিশাল ও ভয়ংকর অজগর সাপে পরিণত হয়ে ফণা তুলল। দরবারের সবাই ভয়ে চিৎকার করে পিছু হটল।
উজ্জ্বল হাত: এরপর মুসা (আ.) নিজের হাত বগলের নিচে রেখে বাইরে বের করলেন। দেখা গেল, তাঁর হাত থেকে সূর্যের মতো প্রখর ও শুভ্র আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে, যা পুরো দরবারকে আলোকিত করে তুলল।
৩. অহংকার ও অপবাদ
এত বড় অলৌকিক দৃশ্য দেখেও ফেরাউনের পাথুরে হৃদয় গলল না। সে নিজের পরাজয় ঢাকতে আমির-ওমরাহদের দিকে তাকিয়ে বলল, “এ তো বড় মাপের একজন জাদুকর! সে জাদুর জোরে তোমাদের রাজ্য দখল করতে চায়।” সে সত্যকে স্বীকার না করে মুসা (আ.)-কে জাদুর মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।
৪. সত্যের চিরন্তন জয়
ফেরাউন ভেবেছিল জাদুকর দিয়ে সে আল্লাহর এই নবীকে পরাজিত করবে। কিন্তু সে জানত না যে, মানুষের তৈরি জাদু আর আল্লাহর দেওয়া অলৌকিক ক্ষমতা (মুজিজা) কখনো এক নয়। এই শুরু হলো সেই সংগ্রামের, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অহংকারী শাসকের পতন ছিল অনিবার্য।
গল্পের শিক্ষা:
নিরাতঙ্ক ইমান: যখন কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তখন দুনিয়ার কোনো পরাশক্তিই তাকে ভয় দেখাতে পারে না।
সত্যের শক্তি: সত্য প্রথম দিকে একাকী মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা পাহাড়ের মতো অজেয় প্রমাণিত হয়।
অহংকারের পরিণতি: নিজেকে খোদা দাবি করে ফেরাউন কেবল ধ্বংসই ডেকে এনেছিল। এটি আধুনিক যুগের সব দম্ভী মানুষের জন্য এক বিরাট শিক্ষা।
