কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির আরও ১৭ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ–৫(বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ও বহিউ স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির আরও ১৭ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগে গত (২১জানুয়ারি) শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে একই কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও দলীয় নীতি,আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে দ্বিতীয় দফায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
তবে পরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে দলীয় সিদ্ধান্তে ইকবালের পরিবর্তে হুদাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও গত (২২ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৈয়দ এহসানুল হুদার আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়।
এরপর পরই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন এবং মাঠে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। তার এই সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চুড়ান্ত ভাবে বহিস্কার আদেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
দলীয় সূত্র আরো জানা যায়, এখন থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো নেতা-কর্মী বহিষ্কৃত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন থেকে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকবে বলে জানান।
