বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপের নাম ভোলা। এটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর অনন্য তার প্রাকৃতিক বৈচিত্রের কারণে। দ্বীপজেলা হিসেবেও পরিচিত। নদী, সাগর আর চরের মিলনে গড়া এই দ্বীপ জেলা যেন প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাস। এই জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান জ্যাকব টাওয়ার। কেউ কেউ আবার এটিকে বাংলার আইফেল টাওয়ার হিসেবে তুলনা করেছেন।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এটির নির্মাণকাজ। টাওয়ারটির নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক এক অধ্যায়। ২০১৭ সালের ১৮ মে টাওয়ারটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। সে সময় পরিদর্শনে আসেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্থাপনার সৌন্দর্যে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে প্রস্তাব দেন ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের নামে নামকরণ করার। এরপর থেকেই এটি পরিচিতি পায় ‘জ্যাকব টাওয়ার’ নামে। প্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালে উদ্বোধন হয় এই টাওয়ারটি। স্থপতি কামরুজ্জামান লিটনের নকশায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এটি।
টাওয়ারটির উচ্চতা প্রায় ২২৫ ফুট এবং ১৬ তলা বিশিষ্ট। একসাথে প্রায় ৫০০ দর্শনার্থী এখানে পরিদর্শন করতে পারবেন। ভূমির উপর থেকে টাওয়ারের ওপরে অবস্থিত গম্বুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ কাঁচ। ব্যবহার করা হয়েছে ক্যাপসুল লিফট, স্বচ্ছ কাঁচে ঘেরা ওয়াচ পয়েন্ট। ভূমিকম্প সহনশীলতার জন্য নেয়া হয়েছে ৭৫ ফুট গভীর ফাউন্ডেশন, যা ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকার মতো শক্তিশালী। টাওয়ারটির উপর থেকে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দূরবীন দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখা যায়। এখানে থেকে দেখা যাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগর।
চরফ্যাশনের এই জ্যাকব টাওয়ার ইতিমধ্যেই ভোলা জেলার পর্যটন শিল্পকে নতুন গতি দিয়েছে। প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকরা এখানে এসে উপভোগ করেন সমুদ্র, চর ও নদীর অনন্য দৃশ্যপট। বিশেষ করে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের সময় টাওয়ার থেকে দেখা দৃশ্য মুগ্ধ করে সবার মন।
যেকোনো জায়গা থেকে এখানে আসা যায়৷ রাজধানী থেকে আসতে হলে প্রথমে সদরঘাট থেকে বেতুয়াগামী লঞ্চে চড়ে নামতে হবে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটে। সেখান থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা বা ৪০ টাকা অটো বা রিকশা ভাড়ায় পৌঁছে যাওয়া যাবে জ্যাকব টাওয়ারে। পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত এই জ্যাকব টাওয়ারে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি লাগে।
