প্রফেসর মোঃ বশির উদ্দিন খান , একজন দায়িত্বশীল , আত্মপ্রত্যয়ী শিক্ষাবিদ । সর্বশেষ কর্মস্থল শহীদস্মৃতি সরকারি কলেজ , মুক্তাগাছা , ময়মনসিংহ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বারা বিদায়ের পাশাপাশি হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও আবেগে সিক্ত হলেন এই মহান মানুষটি।
সূত্র জানায় , আজ বেলা ১২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ বশির উদ্দিন খান কে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়।
বশির উদ্দিন খান ১৯৮২ সালে এসএসসি (১ম বিভাগ) , ১৯৮৫ সালে এইচএসসি (১ম বিভাগ) , ১৯৮৮ সালে জাঃ বিঃ থেকে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৮৯ সালে প্রাণিবিদ্যায় এম,এসসি সম্পন্ন করেন। স্ত্রী ও ৩ সন্তানের জনক প্রফেসর মোঃ বশির উদ্দিন খান ১৯৯৩ সালে ১৪ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) প্রাপ্ত হয়ে প্রভাষক (মূল পদ অধ্যাপক) হিসেবে মহীপুর হাজী মহসিন সরকারি কলেজ থেকে কর্মজীবন শুরু করেন । উনার নিষ্ঠা-সততা-বিচক্ষণতার কারণে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি। ২০০৮ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে আনন্দমোহন সঃ কঃ , ২০১৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ,২০২৩ সালে অধ্যাপক হিসেবে আনন্দমোহন সঃ কঃ, একই বছর উপাধ্যক্ষ হিসেবে পলাশবাড়ী সঃ কঃ, গাইবান্ধা এবং ২০২৪ সালে শহীদস্মৃতি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে ১ বছর ২ মাস ১৯ দিন দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ ফেরদৌস আলমের সঞ্চালনায় ও স্থানীয় শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত উক্ত বিদায় সংবর্ধনায় প্রফেসর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, শহীদস্মৃতি সরকারি কলেজের অধ্যাপক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকসহ প্রভাষকবৃন্দ।
বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদায়ী অধ্যক্ষের সহধর্মিণী মমতাজ বেগমসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উক্ত বিদায় সংবর্ধনায় বিদায়ী অধ্যক্ষকে শিক্ষক পরিষদ,প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ বিশেষ ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
প্রত্যাশা-প্রাপ্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভকারী ও প্রাণিবিদ্যায় সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এই শিক্ষাবিদ তার বিদায় ভাষণে উপজেলা পর্যায়ে এরকম সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা শিক্ষক-প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি নীতিনৈতিকতার মাধ্যমে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন । অনার্স পর্যায়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট খোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন বিদায়ী অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ বশির উদ্দিন খান।
শিক্ষার মতো পবিত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা চলমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষকের স্বল্পতার কারনে ব্যাহত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও অভিজ্ঞ মহলের ধারণা ।
নিরহংকারী , সদালাপী , আজীবন শিক্ষার মতো পবিত্র দায়িত্ব পালনকারী প্রফেসর মোঃ বশির খান ১৯৬৭ সালের ২০ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পারিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।
