১৯৩৬ সালের উনিশে জানুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের ত্রিশে মে—জন্ম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫৬৮ দিনের পথচলায় তিনি একসঙ্গে ধারণ করেছেন সৈনিকের শৃঙ্খলা, মুক্তিযোদ্ধার সাহস, রাজনীতিকের ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্বশীলতা। খুব কম মানুষের জীবনেই এতগুলো পরিচয় একই সঙ্গে বহমান ছিল।
একজন মেজর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে যুদ্ধের ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেন। যুদ্ধশেষে রাষ্ট্রক্ষমতার অঙ্গনে এলেও তাঁর রাজনীতি ছিল মানুষের কাছে যাওয়ার রাজনীতি—রাস্তা, মাঠ ও গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়নের দর্শন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা তাঁকে স্বতন্ত্র উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি যেমন দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তেমনি নিয়েছেন বড় ঝুঁকি। সমর্থনের পাশাপাশি তীব্র বিরোধিতাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার রাজনীতিই কেড়ে নেয় তাঁর জীবন। তবে থেমে যায়নি তাঁর নাম, থেমে যায়নি তাঁকে ঘিরে আলোচনা ও মূল্যায়ন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দলীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালন করছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে স্মরণসভা। পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন এলাকায় কম্বল বিতরণ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়, যা তাঁর মানবিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রত্যাগত প্রবাসী সংগঠনের সভাপতি এস এম সোরাব হোসেনের নেতৃত্বে পৃথকভাবে স্মরণ সভা, আলোচনা ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করেন, দলীয় নেতারা বলেন, দুর্দিনে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহস জোগানোর ক্ষেত্রে সভাপতি এস এম সোরাব হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও মানবিক রাজনীতির বার্তা তৃণমূল ও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় রয়েছে।
সংগ্রাম, সিদ্ধান্ত ও স্বপ্নের যে ইতিহাস শহীদ জিয়াউর রহমান রেখে গেছেন তার প্রতিটি দিন আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। 19 জানুয়ারি তাই শুধু একটি জন্মদিন নয় এটি ইতিহাস স্মরণ, ত্যাগের মূল্যায়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
