আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে অসংখ্য ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক ব্যক্তি এবং ছাগল, উট, গরু, মহিষের মতো পশুপালনেরও মালিক।
আল্লাহ যখন ফেরেশতাদের কাছে বললেন, “ইব্রাহীম আমার বন্ধু (খলিল)”, তখন ফেরেশতারা বললেন: “হে আল্লাহ! যদি কোনো ব্যক্তিকে এত সম্পদ ও পশু দান করা হয়, তাহলে তো তাকে আপনার বন্ধু হতেই হবে।”
তাই আল্লাহ বললেন: “যাও, এবং আমার খলিলকে পরীক্ষা করো।”
আল্লাহর স্মরণের মূল্য
এরপর একজন ফেরেশতা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য মানব আকৃতির রূপে ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে গেলেন।
ইব্রাহীম (আঃ) তখন তাঁর ভেড়ার পাল চড়াচ্ছিলেন। সেই ফেরেশতা সেখানে লুকিয়ে বসে খুব মিষ্টি সুরে আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগলেন।
যখন ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর প্রতিপালকের প্রশংসা শুনতে পেলেন, তখন তিনি ব্যাকুল হয়ে বললেন: “কে আমার প্রতিপালকের নাম নিচ্ছেন? কে এত মিষ্টি সুরে আমার প্রতিপালকের নাম উচ্চারণ করছে?” তিনি সেই ব্যক্তিকে খুঁজতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পরে তিনি সেই মানবাকৃতির ফেরেশতার কাছে এসে পৌঁছালেন। ইব্রাহীম (আঃ) তাঁকে বললেন: “আপনি কি আমার প্রতিপালকের নাম উচ্চারণ করছিলেন?”
ফেরেশতা বললেন: “হ্যাঁ, আমি আমার প্রতিপালকের নাম উচ্চারণ করছিলাম।”
ইব্রাহীম (আঃ) তাঁকে অনুরোধ করলেন: “হে মানুষ, আমার প্রভুকে আবার স্মরণ করুন।”
ফেরেশতা তখন বললেন: “আগে আমি তোমাকে নিজের ইচ্ছায় স্মরণ করেছিলাম। কিন্তু যদি তুমি আমাকে স্মরণ করতে বলো, তাহলে এর জন্য তোমাকে মূল্য দিতে হবে।”
ইব্রাহীম (আঃ) বললেন: “আমাকে বলুন, আপনি কত দাম চান?”
ফেরেশতা বললেন: “আমি তোমার সব ভেড়া চাই।”
ইব্রাহীম (আঃ) দ্বিধাহীন কণ্ঠে বললেন: “এইটুকুই! যাও, আমি তোমাকে আমার সব ভেড়া দিবো। শুধু আমাকে আমার আল্লাহর স্মরণ শুনতে দাও।”
গরুর পালের বিনিময়ে স্মরণ
তারপর ফেরেশতা আল্লাহর স্মরণ পাঠ করলেন। ইব্রাহীম (আঃ) শুনে বললেন: “আমাকে আবার আল্লাহর স্মরণ বলুন।”
ফেরেশতা এবার বললেন: “তুমি আর কী চাও? এইবার আমি তোমার সব গরু চাই।”
ইব্রাহীম (আঃ) মুহূর্ত বিলম্ব না করে বললেন: “যাও, আমি তোমাকে আমার সব গরু দিবো! শুধু আমাকে আল্লাহর স্মরণ শুনতে দাও।”
এই কথা শুনে ফেরেশতার চোখে জল এসে গেলো। তিনি বললেন: “আমি একজন ফেরেশতা। এবং আমি তোমাকে পরীক্ষা করছিলাম। তুমি সত্যি যোগ্য। আল্লাহ তোমাকে তাঁর বন্ধু বানালেন।”
সুবহানাল্লাহ! হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর স্মরণ শোনার বিনিময়ে তাঁর সমস্ত সম্পদ উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন।
শিক্ষা:
আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং আল্লাহর স্মরণের প্রতি অবিচল আগ্রহ এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।
