মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

শিবচরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

অপি মুন্সী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় মাঠে প্রান্তর জুড়ে কালো-সবুজ রঙ শোভা পাচ্ছে। কোথাও কালচে রঙ আবার কোথাও সবুজাভাব রঙ মাঠে। পেঁয়াজের গাছে বের হয়েছে ফুলের কলি। আঞ্চলিক ভাষায় কোথাও বলে পেঁয়াজ কলি আবার কোথাও পেঁয়াজের হাই। তবে মৌসুমের শুরুতে সবজি হিসেবে বাজারে বেশ ভালোই দাম মেলে এই পেঁয়াজ কলির। পরিপুষ্ট পেঁয়াজ পেতে ফসলের মাঠে এই পেঁয়াজ কলি ভেঙে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া এবং বাজারদর ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে লাভবান হবেন এমন আশা পেঁয়াজ চাষিদের।

মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলার পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার নদের পারসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে শীত মৌসুমে চাষ হয় নানান জাতের ফসল। এর মধ্যে পেঁয়াজ ও রসুন অন্যতম। প্রতি বছরই কৃষকরা তাদের জমিতে পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ করে থাকে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, চলতি বছর জেলার ৫টি উপজেলার ৪ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে পেয়াজ। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বেলে ও দোআঁশ মাটি ভালো হওয়ায় চলতি বছর শিবচর উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে পেয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে পেঁয়াজ ক্ষেতে কলি ভাঙার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পেঁয়াজ কলি মাসখানেক আগেও বাজারে ২০-৩০ টাকা আঁটিতে বিক্রি করেছেন। পেঁয়াজ কলি থেকেও বাড়তি আয় আসে চাষিদের। দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে কলি ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়।

শিবচর উপজেলার সন্যাশিরচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল ছালাম মুন্সি জানান, আবহাওয়া অনুকূল এবং বাজারে দাম ঠিক থাকলে পেঁয়াজ উৎপাদনে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন। নতুন পেঁয়াজ উঠলে বাজারে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রিতে করতে পারলে উৎপাদন খরচের পর লাভ হবে বলে আশা করি। উপজলার বহেরাতলা ইউনিয়নের কৃষক আক্কাস বেপারী জানান, সার কীটনাশক এর দাম বেশি তবুও এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পেঁয়াজ বিক্রি ভালো হবে। এ ছাড়া বাজারে দাম ঠিক থাকলে লাভের আশা শতভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শিবচরে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন, কারণ আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং মাটি উপযুক্ত (বেলে দোআঁশ ও উঁচু)।  আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ভালো এবং অনেক কৃষকই পর্যাপ্ত ফলন ও লাভবান হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, তবে ভরা মৌসুমে আমদানি বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যাওয়ার একটা আশঙ্কাও তাদের মধ্যে রয়েছে। 

ভালো ফলনের কারণ অনুকূল আবহাওয়া পর্যাপ্ত রোদ ও কম বৃষ্টিপাত পেঁয়াজ চাষের জন্য সহায়ক হয়েছে।শিবচর ও আশেপাশের এলাকার বেলে দোআঁশ ও উঁচু জমি পেঁয়াজের ফলনের জন্য খুব ভালো।
 কৃষকরা নিবিড় পরিচর্যা করছেন এবং ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। 

প্রতি একরে ৮০-৯০ মণ পর্যন্ত ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দাম কমে যেতে পারে, যা কৃষকের লাভের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে তারা চিন্তিত।  অনেক কৃষকই ভালো ফলনের কারণে স্বস্তি প্রকাশ করছেন।ভালো ফলনের পাশাপাশি, কৃষকরা চান যেন সরকার পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আমদানি যেন ঠিক সময়ে হয়, যাতে তারা ন্যায্য মূল্য পান। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আলিমুজ্জামান খান বলেন, এ বছর পেঁয়াজ চাষিদের প্রণোদনায় বীজ ও সার বিতরণ করায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে এবং আমরা আশাবাদী এ বছর পেয়াজ চাষে কৃষকেরা লাভবান হবে। তিনি আরো বলেন, কৃষকদের বিভিন্ন বিষয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সহকারী কৃষি অফিসারগন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন