সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আব্দুল আহাদ-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১১টায় পুরানগাঁও জনকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিজুরি এইচএ উলুম সিনিয়র আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. হারিস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ড. আব্দুল আহাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজকরা।
ড. আব্দুল আহাদ শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। তিনি ২০০৮ সালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাটাখালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্র। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং তিনি প্রায় প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অধিকারী (ক্লাসের ফার্স্ট বয়) ছিলেন বলে শিক্ষকরা জানান।
পরবর্তীতে তিনি এইচএসসি সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন স্বীকৃত গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমানে ড. আব্দুল আহাদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার গবেষণা আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আকিবুল ইসলাম। এতে বক্তব্য প্রদান করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ ইমরান হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামসহ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, ড. আব্দুল আহাদের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমগ্র বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। গ্রাম পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সাফল্য প্রমাণ করে—পরিশ্রম, সততা ও অধ্যবসায় থাকলে যে কেউ বিশ্বদরবারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারে। তার এই পথচলা এলাকার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে ড. আব্দুল আহাদ বলেন, নিজ গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। ভবিষ্যতেও তিনি শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে চান এবং বিশ্বম্ভরপুরের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে আগ্রহী।
অনুষ্ঠান শেষে ড. আব্দুল আহাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
