মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মহানুভবতা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

💖 একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কার পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, এক বৃদ্ধা মহিলা অত্যন্ত কষ্ট করে নিজের কাঁধে একটি ভারী বোঝা বহন করে চলেছেন।
নবী করীম (সাঃ) বিন্দুমাত্র দেরি না করে এগিয়ে গেলেন এবং বিনয়ের সাথে বললেন:
“মা, আমি কি তোমার বোঝা বহন করে দিতে পারি?”
বৃদ্ধা খুশি হয়ে সম্মতি জানালেন। রাসূল (সাঃ) সাথে সাথেই তাঁর বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং মহিলার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হাঁটতে শুরু করলেন।
পথের সতর্কতা
পথে চলতে চলতে মহিলা নবী করীম (সাঃ)-কে চিনতে পারেননি। কিন্তু কথা বার্তার ফাঁকে তিনি বলতে লাগলেন:
“বাবা, তুমি মক্কায় থাকবে, তাই তোমাকে একটা কথা বলি। মক্কায় এক ব্যক্তি আছেন, যিনি নতুন একটি ধর্মের কথা বলছেন। তিনি নাকি সবাইকে বাপ-দাদার ধর্ম ছাড়তে বলছেন। তুমি ওঁর থেকে খুব সাবধান থাকবে!”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এতটুকু কষ্ট না পেয়ে বা কোনো রাগ না দেখিয়ে, শুধু মুচকি হাসলেন। তিনি চুপচাপ মহিলার বোঝা বহন করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিলেন।
অলৌকিক প্রকাশ
যখন তিনি মহিলার গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মহিলা তাঁর নাম জানতে চাইলেন।
রাসূল (সাঃ) শান্ত কণ্ঠে বললেন:
“আমি মুহাম্মদ।”
এ কথা শুনে মহিলাটি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন! যাঁকে নিয়ে তিনি এতক্ষণ ধরে সাবধান করছিলেন, যিনি নাকি সমাজের জন্য ‘বিপদ’, সেই ব্যক্তিই নিঃশব্দে তাঁর বোঝা বহন করলেন, কোনো বিনিময় চাইলেন না, আর এতটুকু রাগও দেখালেন না।
সেই মুহূর্তে মহিলার অন্তর নরম হয়ে গেল এবং তিনি মহানবী (সাঃ)-এর চরিত্র ও সত্যতা উপলব্ধি করে সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।
শিক্ষা:
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই ঘটনা প্রমাণ করে, চরিত্রের মাধুর্য এবং বিনয়ের মাধ্যমে সেবা হলো দাওয়াতের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। শ্রেষ্ঠত্ব অহংকারে নয়, বরং নিঃস্বার্থ সেবায় নিহিত।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন