ফেনী-২ (সদর) সংসদীয় আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা খান আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মজিবুর রহমান মঞ্জু নিজে উপস্থিত থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তার দাখিলকৃত কাগজপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, এই আসনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জুকে সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। ফলে ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুর অবস্থান আরও সুসংহত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নতুন ধারার রাজনৈতিক দল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান মঞ্জুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর শর্শদী গ্রামে। বাংলাদেশের মহান বিজয়ের দিনে জন্ম নেওয়া মঞ্জুর বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শৈশবেই বাবাকে হারালেও সংগ্রামী মায়ের তত্ত্বাবধানে তিনি গড়ে ওঠেন। ছয় ভাইবোনের পরিবারে সবাই সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষাজীবনে মজিবুর রহমান মঞ্জু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
পরবর্তীতে দেশের বহুল প্রচারিত গণমাধ্যম দিগন্ত টেলিভিশনে উপ-নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতা ও সুনাম অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় মঞ্জু একটি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন সুনামের সঙ্গে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। পাশাপাশি তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিও তার গভীর অনুরাগ রয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি কবিতা, গান ও নাটকের রচয়িতা। টেলিভিশন টকশোতে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে মজিবুর রহমান মঞ্জু ঐক্যমত্য কমিশনের একজন সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী এবং জুলাই অভ্যুত্থানের একজন অন্যতম প্রধান অংশীদার। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং কারাবরণ করেন বলেও জানা গেছে।
ফেনী-২ আসনে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।
