২০২৫ সালে মাঝারি বাজেটের ছবিতেই আবার প্রাণ পেয়েছে ভারতের সিনেমা হলগুলো। বড় বাজেটের ছবি মুখ থুবড়ে পড়ায় পুরোনো এক সত্য নতুন করে সামনে এল—টিকে থাকতে হলে শুধু চোখধাঁধানো আয়োজন নয়, দরকার এমন গল্প, যা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে।
নতুন বাস্তবতা
করোনোর পরের সময়ে ভারতের সিনেমা হলগুলো যেন এক নির্মম দ্বিমুখী বাস্তবতা মেনে নিয়েছিল। হয় কোনো ছবি আসবে ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার বিশাল আয়োজন নিয়ে—যার লক্ষ্য মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিস্ফোরণ ঘটানো—না হয়ে সেই ছবি আলোচনার বাইরেই থেকে যাবে, সরাসরি চলে যাবে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে, তা–ও প্রায় কোনো প্রচার ছাড়াই।
একসময় যে মাঝারি বাজেটের প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক ছবি ছিল হিন্দি সিনেমার মেরুদণ্ড এবং সব ভাষার ইন্ডাস্ট্রির নির্ভরযোগ্য ভরসা, তা যেন হারিয়েই গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সাল সেই ধারণাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।
বড় ছবির ব্যর্থতা, মাঝারি ছবির টিকে থাকা
চলতি বছর দেখা গেছে, বহু আলোচিত ও বড় বাজেটের চেনা ছকের ছবি প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও ৮০ থেকে ১০০ কোটি রুপি বাজেটের বেশ কিছু ছবি—যেগুলো সেভাবে প্রচারও করেনি—ধারাবাহিকভাবে দর্শক টেনেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সাফল্যও পেয়েছে।
একটি মাত্র ঘটনার কারণে নয়, বরং কয়েকটি বাস্তবতার সম্মিলনে সিনেমা হলগুলো আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে, চোখধাঁধানো অথচ ফাঁপা ছবির প্রতি দর্শকের ক্লান্তি, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ‘নিরাপত্তা জাল’ সরে যাওয়া, আর প্রদর্শকদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

