জমিদার নেই,জমিদারি প্রথাও বিলুপ্ত। কিন্তু উনিশ শতকে নির্মিত টাঙ্গাইলের নাগরপুর জমিদার বাড়িটি আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়ভাবে ‘চৌধুরী বাড়ি’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি তার গৌরবগাথার জানান দিলেও এখন পড়েছে অবহেলা ও দখলদারের কবলে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সুবিদ্ধা খাঁর হাত ধরে নাগরপুরে চৌধুরী বংশের জমিদারির সূচনা হয়। এই বংশের প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী প্রায় ৫৪ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন এই জমিদারবাড়ি। কথিত আছে, তিনি কলকাতার আদলে নাগরপুরকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এই জমিদারবাড়ির স্থাপত্যে পাশ্চাত্য ও মুঘল রীতির অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। অট্টালিকাটির অভ্যন্তরের কাজ সুদৃশ্য শ্বেত পাথরে গড়া। এই চৌধুরী বংশেরই একজন সদস্য সুরেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত ফুটবল দল ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তৎকালীন সরকার চৌধুরীবাড়ির সকল সম্পদ অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে চৌধুরীবাড়ির মূল ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ। তবে জমিদারবাড়ির অনেক ভবনই এখন ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা দখলদারের কবলে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মুক্ত করে এর সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়। তবে নাগরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান জানান, এখনও সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হয়নি। ৫৪ একর জায়গার মধ্যে মাত্র ১০-১২ একর জায়গা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারিভাবে লিজ বরাদ্দ রয়েছে। বাকি জায়গাগুলো দখলমুক্ত করতে প্রশাসনিক দৃশ্যমান কোনো অভিযান নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ অথবা সংস্কার করা খুবই জরুরি। এই জমিদার বাড়ি কেবল একটি প্রাসাদই নয়, এটি আমাদের ইতিহাস-সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

