বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় খোলা বাজরে ন্যায্য মূল্যে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

মোঃ আব্দুল আজিজ ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খোলা বাজারে ন্যায্য মুল্যে সারের দাবিতে উপজেলা কৃষি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে অর্ধ শতাধিক কৃষক। পরে তারা কৃষি অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। আজ বুধবার দুপুর ২ টার দিকে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা এসব কর্মসূচি পালন করে। পরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মোঃ আখিঁরুজ্জামান মাসুম এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষোভ কৃষকদের মধ্যে একজন প্রতিনিধি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। গত এক মাস ধরে উপজেলায় তীব্র সারের সংকটে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষের জন্য সার সংগ্রহ করছেন। তবে সারের পাইকারি ও খুচরা ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। এমনকি বেশি দামেও কৃষকের চাহিদা মোতাবেক এই সার সংগ্রহ করছে না ডিলাররা বলে অভিযোগ কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, ডিএফপি সার সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা থাকলেও ডিলাররা বিক্রি করছেন ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা। পটাশ সার সরকার নির্ধারিত ১০০০ টাকা বিক্রয় মূল্য থাকলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা। এছাড়া ইউরিয়া সহ অন্যান্য সার সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। উপজেলা কৃষি অফিসের মনিটরিং এর অভাবে ডিলাররা ইচ্ছামত দামে সার বিক্রি করছে।

এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেন, বেশি দামে সার বিক্রির বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস ও বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্ত অভিযোগকারী কৃষকদের নাম উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ডিলারদের কাছে প্রকাশ করে দেওয়ায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এজন্য তারা সারের দাম বেশি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। তাদের মতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার কারণে ডিলারদের সাথে তাদের যোগসাজশ রয়েছে।

উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাটুল গ্রামের কৃষক আলম হোসেন বলেন, সার কিনতে গেলে ডিলাররা বলেন সার নেই। তবে বস্তায় ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিলেই সার বিক্রি করে। কারোর কাছে কোন কথা বলি প্রতিকার পাওয়া যায় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, সারের সংকট থাকলেও ইতিপূর্বে কৃষকরা কখনোই বিক্ষোভ করে নেই। তবে এবার কেন কৃষকরা সারের জন্য বিক্ষোভ করছে বুঝতে পারছি না। পর্যাপ্ত সার বরাদ্দো দেয়া সত্ত্বেও কেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অভিযান চালানো হবে।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, কৃষকদের বিক্ষোভ বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। কৃষি কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে সমাধানের চেষ্টা করবো।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন এবং ভিডিও নিউজ এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন