বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ডিজিটাল যুগের সামাজিক অমানিশা

মোহাম্মদ সোহেল বিশেষ প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চায়ের দোকান, গাছের ছায়া কিংবা বাড়ির আঙিনায় আজ এক অদৃশ্য বিষবাষ্পের বিস্তার ঘটেছে। মোবাইল ফোনের পর্দায় ‘লুডু কিং’-এর নামে চলছে সর্বনাশা জুয়ার মহোৎসব। এই ডিজিটাল আসরে সমবেত হচ্ছেন স্কুলপড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে কর্মমুখর যুবক ও পরিবারের কর্তাব্যক্তি পর্যন্ত। প্রযুক্তির এই বিকৃত ব্যবহার সমাজের অঙ্গনে যে বিষক্ষত রোপণ করছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৌলিক চরিত্রগঠনের জন্য এক মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।পর্যবেক্ষণে জানা যায়, ‘লুডু কিং’ নামক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে চার থেকে আটজন অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়ে জুয়ার এই আসর জমিয়ে তুলছেন। প্রতিটি গেমে বাজি ধরা হয় দুই শত থেকে পাঁচ শত টাকা, কখনো যা আরও অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এই অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় পরাজিত ব্যক্তি বিজয়ীকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেন। দিনের পর দিন এই অমানবিক ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত থাকায় অনেক পরিবার আজ নিঃস্বতার কিনারে উপনীত হয়েছে। নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার গৃহস্থালির মূল্যবান সামগ্রী পর্যন্ত বাজি রাখার নজির রয়েছে।

এই জুয়ার নেশা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে যে দুর্যোগ ডেকে আনছে, তার প্রকাশ ঘটেছে স্বামী-স্ত্রীর অন্তর্দন্দ্ব, সন্তানের শিক্ষাবিমুখত।পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটের মাধ্যমে। এক যুবকের আত্মস্বীকৃতি: “জুয়া খেলতে খেলতে রক্তে এই নেশা মিশে গেছে।” অন্যদিকে স্ত্রীর করুণ অক্লান্তি: “চালের টাকাও সে জুয়া খেলে শেষ করে দেয়।” স্থানীয় চায়ের দোকানগুলো এই অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এক দোকানদারের বক্তব্যে এর প্রমাণ মেলে: “দীর্ঘক্ষণ খেলা হলে আমার বিড়ি-সিগারেটের বিক্রি বৃদ্ধি পায়।” এই স্বার্থকেন্দ্রিকতা সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে মাত্র। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ আবশ্যক। প্রথমত, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তদারকি ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। তৃতীয়ত, অভিভাবকদেরকে সন্তানের ডিজিটাল কার্যকলাপে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রাপথে প্রযুক্তি যখন আমাদের অগ্রগতির বাহন, তখন এর অপব্যবহার রোধে আমাদেরই সচেতন হতে হবে। নতুবা এই ডিজিটাল জুয়া সমাজদেহে এক অপ্রতিরোধ্য মহামারীর রূপ ধারণ করবে, যা আমাদের কাংখিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এক দুর্লঙ্ঘ্য বাধা সৃষ্টি করবে। সময় থাকতে এই সামাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন