বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ডেকড়া চাঁন্দের বাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত কেন্দ্রবিন্দু। যশোপাড়া বাজার থেকে অল্প দূরেই এই বাজারটি তিনমুখী রাস্তার সংযোগে গড়ে উঠেছে। একদিকে রাস্তা গেছে পীরগাছা, অন্যদিকে মাটিডালী রোড, আর তৃতীয় দিকের রাস্তা চলে গেছে রামেশ্বরপুরে। বাজারটি শুধু যাতায়াতের কেন্দ্র নয়, এটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন সকালে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এই রাস্তা ব্যবহার করেন।
ডেকড়া চাঁন্দের বাজারের পাশে অবস্থিত নুরুইল বিল, যা স্থানীয়ভাবে শাপলা বিল নামেও পরিচিত। শীতকালের শুরুতে এখানে লাল ও সাদা শাপলা ফুল ফুটতে শুরু করে, যা বিলের স্বচ্ছ পানিতে প্রতিফলিত হয়ে এক অপার প্রাকৃতিক দৃশ্য সৃষ্টি করে। পাখির কোলাহল, কচুরিপানা এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ বিলটিকে করে তোলে এক মনোমুগ্ধকর স্থান। বিলের সৌন্দর্য গ্রামের মানুষ ও পর্যটকদের মনকে মুগ্ধ করে।
আমার বাড়িও এই গ্রামেরই মধ্যে অবস্থিত। এই গ্রামের সৌন্দর্য আমি ছোটবেলা থেকে অনুভব করেছি। দৈনিক পীরগাছা সংবাদ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এস. এম. সালমান হৃদয়-এর বাড়িও এই গ্রামের মধ্যে অবস্থিত, তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার এই গ্রামের সঙ্গে গভীর সংযোগ রয়েছে। ডেকড়া চাঁন্দের বাজারে যাতায়াত এবং নুরুইল বিলের শাপলার সৌন্দর্য দেখার স্মৃতি সবসময় মনে উজ্জ্বল হয়ে থাকে। শীতের সকালে বিলের ধারে হেঁটে যাওয়া, শাপলার লাল-সাদা সমারোহ এবং পানি-প্রতিফলন যেন পুরো গ্রামের শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
শাপলার মৌসুমে পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। অনেকেই রাস্তার পাশে যানবাহন থামিয়ে ছবি তুলেন, আবার কেউ কেউ হাতে তুলে নেন দু’একটি ফুল। বিলজুড়ে লাল, সাদা ও বেগুনি শাপলার সমারোহ চোখে পড়ে। বছরের ছয় মাস এখানে পানি থাকার কারণে এই সময়ই শাপলার পূর্ণ সৌন্দর্য দেখা যায়। গ্রামের লোকজনও প্রাকৃতিকভাবে ফোটা এই শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন এবং হাটে বিক্রি করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাট হওয়ায় শাপলার সংখ্যা কমে আসছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। তাই আমাদের সকলকে এই প্রকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে।
আমার মতো গ্রামের মানুষরা আশা করি, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে ডেকড়া চাঁন্দের বাজার এবং নুরুইল/শাপলা বিল আরও পরিচ্ছন্ন, প্রাণবন্ত এবং স্থানীয় পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আমাদের গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শাপলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আগামী প্রজন্মেরও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

