ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় অনলাইন জুয়ার নেশায় আসক্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন বাবা-মা। হত্যার পর তাদের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে সেই ছেলে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের বাসকুড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কৃষক মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী বানুয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তাদের একমাত্র ছেলে রাজু (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত রাজু বুধবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনায় তার মাকে গলা টিপে হত্যা করে। রাতে বাড়ি ফেরার পর কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বাবাকেও হত্যা করে। এরপর শোবার ঘরের বিছানার পাশে মেঝে খুঁড়ে মরদেহ দুটি পুঁতে রাখে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজু তার বোনদের ফোন করে জানায়, মা-বাবা নিখোঁজ। বোনেরা শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে প্রতিবেশীদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে ঘরের ভেতর নতুন মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে তারা রাজুকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে রাজুর দেখানো মতে পুলিশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মোহাম্মদ আলী কৃষিকাজ ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজু দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার নেশায় ডুবে ছিল। মাসখানেক আগে তার স্ত্রী স্বামীর নির্যাতনে এক মাসের সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। জুয়ার টাকার জন্য রাজু প্রায়ই বাবা-মাকে নির্যাতন করত। ধারণা করা হচ্ছে, জুয়ার টাকার জন্যই সে বাবা-মাকে হত্যা করেছে।
ত্রিশাল থানার ওসি মুনসুর আহমেদ বলেন, “রাজুর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “রাজু অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। এই আসক্তির কারণেই তার স্ত্রী ও সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যায়। অনলাইন জুয়ার আসক্তি দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। স্থানীয়রা বলছেন, অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

