রাত ঠিক ১২টা বেজে গেছে।
নানা কাজে সারাদিন ব্যস্ততায় কেটেছে।
ভেবেছিলাম বাসায় এসেই গা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো।
হঠাৎ বসের ফোন!
মিত্র বাবু, আমি ডি.এম. শরৎ সুধাখাই বলছি,
রাতেই ফাইলের কাজটুকু সেরে রাখবেন।
সকাল ন’টায় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিবো।
খুব বিরক্ত মনে কাজটুকু কমপ্লিট করেই ঘুমাবো। কিন্তু
আমার বরাবরই অভ্যাস ঘুমের আগে এক গ্লাস জল খাওয়া। দুর্ভাগ্য যে খাবার জলের পাত্রে এক ফোঁটা জলও নেই।
মোবাইলে টর্চ জ্বালিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সামনেই টিউবওয়েল। কিন্তু জল উঠছে না।
এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।
একটু দূরেই শ্মশানের ঠিক উল্টো দিকটায় একটা টিউবওয়েল আছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সাহসই হচ্ছে না।
দিনেও নাকি ধমকা হাওয়া, করুণ কান্না, হাসি ইত্যাদি প্রতিধ্বনি শোনা যায়!
তবুও মোবাইলের টর্চের আলোতে দুরুদুরু বক্ষে ঠিক নলকূপের নিকটে চলে আসছি।
মোবাইলটাকে কোমড়ে গুঁজে যখনই কল চাপতে যাবো অমনি একটা দমকা হাওয়ায় আমার হাত থেকে জলের পাত্রটি পড়ে গেলো!
গায়ের পশম গুলো দাঁড়িয়ে গেছে!
গলা শুকিয়ে যাচ্ছে!
ভয়ে আত্মরাম শুকিয়ে গেলো!
কাঁপা কাঁপা গলায় চিৎকার দিতে গিয়েও দিতে পারিনি।
একটু সাহস এনে যেই কল চাপতে যাবো অমনি আকাশ আার পাতাল কালো করে আঙুল সম বড় বড় দাঁত কিল বিলিয়ে নাকি সুরে কে যেনো বলে উঠলো,
আমি তোর শান্তির মা খুড়ি!
ভয় পাইসনে।
তোর কোনো
ক্ষতি করবো না।
এইকটু শোনার পরেই
আমি জ্ঞান হারিয়েছি।
সকাল দশটায় হাসপাতালের
বেডে শুয়ে অফিস বসের ডাকে
সম্বিত ফিরে পেলাম।
তখন যদিও কিছুটা নিজেকে হালকা অনুভব করেছিলাম।
আজো সে কথা মনে পড়লে গায়ে শিহরণ জেগে
বুকটা কম্পন দিয়ে ওঠে।
শুনেছি সেই ঘটনার তিন আগেই খুড়ি দেহ রেখেছিলেন।
