আপনারা কি সবাই মুখ গোমরা করে বসে থাকেন? নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার জন্য অথবা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তুলে ধরার জন্য? তাহলে এই গোমরা মুখো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষদের জন্য আমার এই পোস্ট। আসেন আজ হাসি নিয়ে কিছু কথা বলি।
আমার কাছে হাসি হচ্ছে একটি স্বর্গীয় ব্যাপার যা স্বর্গ থেকে এসে আমাদের প্রভাবিত করে। অবশ্যই এটা সম্পূর্ণ আমার নিজের মতামত। আমি নিজে প্রচুর হাসি। ।হাসতে ভালবাসি। মন খুলে ,প্রাণ খুলে শব্দ করে হো হো করে হাসি।আপনি কেন হাসবেন বা হাসির উপকারিতা কি?
হাসির কিন্তু অনেক উপকারিতা আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। হাসি আমাদের মন ভালো করে দেয়। শারীরিক সুস্থতা এনে দেয়। হাসি হচ্ছে সংক্রমণের মত যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেয় এরকম কয়েকটি উদাহরণ দেই।জাপানের একজন সাধক হুদে যে বৌদ্ধের বাণী প্রচার করতেন ,তার মূল শিক্ষা কিন্তু ছিল হাসি। তিনি মানুষকে হাসাবার জন্য মাঠে গিয়ে দাঁড়াতেন, বাজারে গিয়ে দাঁড়াতেন তারপর হাসি শুরু করে দিতেন। এভাবে তিনি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যেতেন। তার হাসিতে চতুর্দিকে প্রচুর লোক জড়ো হয়ে যেত ,তারপর তারাও হাসতে লেগে যেত। এভাবে মানুষের ডিপ্রেশন, আনন্দ এবং রোগ মুক্তি হতো। মানুষ হুদের জন্য অপেক্ষা করে থাকতো কখন তিনি আসবেন। এইভাবে সে মানুষকে হাসির মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল সমস্যা থেকে বের করে নিয়ে আসতেন। হাসি কিন্তু মানুষকে রোগ মুক্ত করতেও সাহায্য করে। অনেকেই হয়তো আমার এই কথাটা বিশ্বাস করবেন না। তবে এটা কিন্তু সত্যি এরকম ঘটনা পৃথিবীতে বহু ঘটেছে। আমেরিকার সানডে পত্রিকার সম্পাদক নরমেন কাজিজ মেরুদন্ডের প্রদাহে আক্রান্ত হন। ডাক্তাররা তার আশা ছেড়ে দেন। তিনি নিজেও নিরাশ হয়ে যান এবং ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। যখন প্রচন্ড ব্যথা শুরু হতো তিনি তার প্রিয় হাসির নাটক সিনেমা দেখা শুরু করতেন। তারপর এক সময় তিনি খেয়াল করলেন যে ব্যথাটা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। তিনি হাসির সুফল বুঝতে শুরু করলেন। যেই ব্যথা তার এক ঘন্টার ছিল সেই ব্যথাটাই আস্তে আস্তে 20 মিনিট কম মনে হচ্ছে এভাবেই সে সুস্থ হয়ে উঠলেন। এই নিরাময়ের উপর তার একটা বইও আছে। তিনি সেখানে হাসির উপর তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।Anatomy of an illness হচ্ছে তার লেখা একটি বই। যেখানে তিনি হাসি দিয়ে রোগ নিরাময় কথা তুলে ধরেন।বিশ্বের বিভিন্ন ডাক্তারগণ হাসি নিয়ে প্রচুর গবেষণা করছেন। কিভাবে হাসি দিয়ে রোগ নিরাময় করা সম্ভব। ডক্টর মোদি বলেন হাসি হচ্ছে একটা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ। অট্টহাসি মানুষের ব্রেন এবং পেশী গুলির উঠানামায় সঞ্চালন করে। অনেক সময় আমরা বলি না হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে গেল। এটা হচ্ছে সেই ধরনের হাসি। আবার সব হাসি কিন্তু উপকারী নয়। ডাক্তার মোদী বলেন তার এক বন্ধুর চিকিৎসার ধরন ছিল হাসি দিয়ে। তিনি এই হাসিকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।
১-বিদ্রুপাত্মক হাসি
২-হাসির কথা শুনে হাসা।
৩-প্রাণ খোলা হাসি
সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে তিন নাম্বার হাসি। দুই নম্বর এবং তিন নম্বর হাসি সবচাইতে বেশি কার্যকর। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন হাসি হচ্ছে সদগায়ে জারিয়া। আপনি কাউকে দেখে হাসলেন , হেসে কথা বললেন। এটা একটি পুণ্যের কাজ। আসেন সবাই আমরা মন, প্রাণ খুলে হাসি। নিজেদের শরীর মন সুস্থ রাখি।
