সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ভারতে পালিয়েছেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ২:৩৯ পিএম | 84 বার পড়া হয়েছে
ভারতে পালিয়েছেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম

দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন পুলিশের সাবেক অতরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী বাংলাদেশি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুকে ছবিসহ এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, পলাতক এসবি প্রধান (সাবেক) মনিরুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত করেছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্র। ভারতের রাজধানী দিল্লির কানঘট প্লেসের একটি গ্রোসারি স্টোরে রোববার বিকেলে মনিরুল ইসলামকে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনার সময় ক্যামেরাবন্দি করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পলাতক বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বসবাস করছেন। বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারত সরকারের উচিত হবে অনতিবিলম্বে এদের খুঁজে বের করে বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। এ বিষয়ে ভারতীয় হাই কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কোটা সংস্কারে পরিচালিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৫ কোটি টাকা আনার অভিযোগ ওঠে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি গণমাধ্যমকে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি) মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমি পালিয়ে যাইনি। পালাবও না। আমি দেশেই ছিলাম, দেশেই আছি। ভবিষ্যতে দেশেই থাকব। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি বাসায় ফিরিনি।’

দিঘলিয়ায় উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি-খুলনা প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:১২ পিএম
দিঘলিয়ায় উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিঘলিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনসহ আগে ও পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকদ্রব্য আমদানি ও কেনাবেচা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে তা নামিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঈদের জামাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে বিভিন্ন ঘাটে নির্ধারিত টোলের বেশি আদায় করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে সড়কে খোলা ট্রাক বা পিকআপে মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা এবং বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিঘলিয়ার প্রতিটি খেয়াঘাটে নৌকাতে ১৫ জনের বেশি উঠানো যাবে না।

ঈদের জামাতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। এ লক্ষ্যে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দিঘলিয়া কন্টিনজেন্ট এবং দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা ও খানজাহান আলী থানা পুলিশ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে।

মুক্তাগাছা সিংড়ার খাল পূর্ণ খনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
মুক্তাগাছা সিংড়ার খাল পূর্ণ খনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহে জেলার মুক্তাগাছা থানার ৫নং বাঁশাটি ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সিংড়ার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন কার্যক্রমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন এমপি, সংসদ সদস্য ১৫০, ময়মনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর এর এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মুক্তাগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণচন্দ্র প্রমুখ।

ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে নেই ব‍্যাস্ততা, অস্তিত্ব সংকটে শতবর্ষের তাঁত শিল্প

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম
ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে নেই ব‍্যাস্ততা, অস্তিত্ব সংকটে শতবর্ষের তাঁত শিল্প

ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। কিন্তু সেই ব্যস্ততার ছিটেফোঁটাও নেই পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প যেন আজ অস্তিত্ব সংকটে। বাজার দখল করে নিয়েছে ভারতীয় শাড়ি, আর কাজ হারাচ্ছেন দেশীয় কারিগররা।

বেনারসী পল্লী ঘুরে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীর এই বেনারসী পল্লীর ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে আসা কারিগররা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। দক্ষ হাতে কাতান ও বেনারসী শাড়ি বুননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সমৃদ্ধ এ তাঁত শিল্পের জনপদ।

২০০৪ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকায় সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর গড়ে তোলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসী পল্লী। ২০ বছরে প্লটের কিস্তি পরিশোধের সুবিধার্থে ৯০ জন তাঁতিকে ৯০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০টি তিন শতাংশের এবং ২০টি পাঁচ শতাংশের প্লট।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ৯০টি প্লটের মধ্যে মাত্র সাতটিতে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, আর বর্তমানে চালু রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। এক সময় এই এলাকা মুখরিত থাকতো তাঁতের খটখট শব্দে। কয়েক হাজার কারিগর ও শতাধিক কারখানায় দিনরাত চলতো শাড়ি তৈরির কাজ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে।

ঈদ সামনে থাকলেও আগের মতো নেই কর্মচাঞ্চল্য। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কয়েকটি কারখানা, অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী ও কারিগরদের অভিযোগ, ভারতীয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি কম দামের শাড়ি বাজার দখল করে নেওয়ায় দেশীয় হাতে বোনা বেনারসী শাড়ির চাহিদা কমে গেছে। এতে করে এক সময়ের জমজমাট তাঁত শিল্প এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

বেনারসী পল্লীর কারখানা মালিক ও কারিগররা জানান, সরকারি উদ্যোগে এই পল্লী গড়ে উঠলেও এখানে পর্যাপ্ত তাঁত বসেনি। ফলে এটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একসময় এখানে প্রায় এক হাজার তাঁত ছিল, যা কমতে কমতে এখন ৪০ থেকে ৫০টিতে নেমে এসেছে। নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।

তাঁত শাড়ি ব্যবসায়ী মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার বাবা বেনারস থেকে এখানে এসে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় শাড়ি বাজারে ঢোকার কারণে আমরা আগের মতো তাঁত টিকিয়ে রাখতে পারছি না। শাড়ি তৈরিতে কারিগরের খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় শাড়ির দাম কম হওয়ায় আমাদের শাড়ি বেশি দামে বিক্রি করা যায় না। সেখানে মেশিনে এক দিনে দশটি শাড়ি তৈরি হয়, আর আমরা হাতে তৈরি করতে দশ দিন লাগে একটি শাড়ি। এ কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বেনারসী পল্লীর কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

error: Content is protected !!